শক্তিশালী বিনিয়োগ আয়, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে প্রবৃদ্ধি এবং প্রভিশনিং ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বলে ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল জানানো হয়।
২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত প্রান্তিকে ইবিএলের কর-পরবর্তী সমন্বিত মোট মুনাফা ১৯৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৫৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৪ টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে ছিল শূন্য দশমিক ৯৭ টাকা। অন্যদিকে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ৭৫ টাকা, যা আগের বছর ছিল ২৬ দশমিক ৪১ টাকা।
ইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ও. রশিদ বলেন, ‘আমরা সম্পদের গুণগত মান, মূলধনের শক্ত অবস্থান ও তারল্য বজায় রাখার পাশাপাশি গ্রাহক সম্পর্ক আরো গভীর করা এবং ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিয়েছি।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ব্যাংকটির ঋণের সুদ আয় ও আমানতের সুদ ব্যয়ের ব্যবধান থেকে অর্জিত নিট আয় কমে ১১৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ২২৮ কোটি টাকা।
বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ইবিএল ঋণের পরিবর্তে সরকারি সিকিউরিটিজে বেশি বিনিয়োগ করেছে। ফলে প্রচলিত ঋণভিত্তিক সুদ আয় কিছুটা কমলেও বিনিয়োগ পোর্টফোলিও থেকে নিরাপদ ও বেশি মুনাফা অর্জিত হয়েছে। এ সময় সুদ ব্যয় ১৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর কারণ তহবিল সংগ্রহের ব্যয় উচ্চ অবস্থায় ছিল। অন্যদিকে ঋণ থেকে সুদ আয় ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে বিনিয়োগ আয় ২৪ শতাংশ বেড়ে ৪৭৮ কোটি টাকায় পৌঁছানোয় নিট সুদ আয়ের চাপ অনেকটাই সামাল দেয়া গেছে।
ফি, কমিশন ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসহ নন-ফান্ডেড আয় ১৪ শতাংশ বেড়ে ১৯২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭ কোটি টাকা হয়েছে।
এ সময় ইবিএল শক্তিশালী সম্পদমান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে ব্যাংকটির একক ভিত্তিতে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ হার দেশের ব্যাংক খাতের গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
ব্যাংকটির মূলধনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন অনুপাত (সিআরএআর) একক ভিত্তিতে ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং সমন্বিত ভিত্তিতে ১৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম ১২ দশমিক ৫ শতাংশের অনেক ওপরে।
তারল্য পরিস্থিতিও সন্তোষজনক ছিল। ব্যাংকটির লিকুইডিটি কভারেজ রেশিও (এলসিআর) ছিল ২৩৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং নেট স্ট্যাবল ফান্ডিং রেশিও (এনএসএফআর) ১১৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
ব্যাংকটির মোট আমানত আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে একক ভিত্তিতে মোট সম্পদের পরিমাণ ১৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৯৬১ কোটি টাকায়।